1. admin@naldangabatra.com : admin :
মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সিংড়ায় প্রশাসন কর্তৃক গদাই নদীর উপর অবৈধ বাঁধ অপসারণ। রংপুরে ৫ জুয়াড়িসহ ১০ জন আটক উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বামী’কে প্রার্থী রেখে নলডাঙ্গায় স্ত্রীর মনোনয়ন প্রত্যাহার। লালপুরে বৃষ্টির আশায় ব্যাঙের বিয়ে। লালপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন যারা। সিংড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু! তীব্র গরমের কারণে হিটস্ট্রোকে বাগমারায় এক কৃষকের মৃত্যু! রাজশাহীর পুঠিয়া এলাকা হতে ১৯৬ বোতল ফেন্সিডিলসহ ১ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেন-(র‌্যাব ৫) গাছে ধাক্কা লেগে উড়ে গেলো বাসের ছাদ; নিহত ১ নওগাঁর বদলগাছী থেকে হেরোইনসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

যারা বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এক পর্যায়ের দল নয়-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নলডাঙ্গা বার্তা ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
যারা বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে এক করে দেখে তাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেকে অনেক কথা বলে, কেউ কেউ আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি'র তুলনাও করে; কেউ কেউ বলে দুই দল। এখানে একটা কথা বলতে চাই ২০০৮ সালের সেই নির্বাচনের বিএনপি পেয়েছিল মাত্র ৩০টি সিট ৩০০ সিটের মধ্যে। আওয়ামী লীগ মহাজোট করেছিল, বিএনপির ছিল ২০ দলীয় জোট; বিএনপির নেতৃত্বে পেল ৩০টি সিট আর বাকি আওয়ামী লীগ, তাহলে এই দুই দল এক পর্যায়ের হয় কীভাবে প্রশ্ন তুলে বলেন, দুই দল এক পর্যায়ের হয় কীভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তুলনা চলে না।
৮৪ বার পঠিত

যারা বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এক পর্যায়ের দল নয়-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ-

যারা বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে এক করে দেখে তাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেকে অনেক কথা বলে, কেউ কেউ আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি’র তুলনাও করে; কেউ কেউ বলে দুই দল। এখানে একটা কথা বলতে চাই ২০০৮ সালের সেই নির্বাচনের বিএনপি পেয়েছিল মাত্র ৩০টি সিট ৩০০ সিটের মধ্যে। আওয়ামী লীগ মহাজোট করেছিল, বিএনপির ছিল ২০ দলীয় জোট; বিএনপির নেতৃত্বে পেল ৩০টি সিট আর বাকি আওয়ামী লীগ, তাহলে এই দুই দল এক পর্যায়ের হয় কীভাবে প্রশ্ন তুলে বলেন, দুই দল এক পর্যায়ের হয় কীভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তুলনা চলে না।

আজ শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্যাপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গারহাট তালিমপুর-তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, গ্রেনেড হামলা, ৫০০ স্থানে একসঙ্গে বোমা হামলা, ৬৩ জেলায় বোমা হামলা, দুর্নীতিতে পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন, ওরা মানুষকে কিছু দেয়নি; মানুষের অর্থ সব লুটপাট করে বিদেশে নিয়ে গেছে। এমন একটা রাজনৈতিক দল তারা তাদের নিজেদের গঠনতন্ত্র মানে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, বিএনপির গঠনতন্ত্রে আছে সাজাপ্রাপ্ত আসামি দলের নেতা হতে পারে না। আর বিএনপি আজকে কি একটা নেতাও পায় না যে অন্তত সাজাপ্রাপ্ত আসামি না? খালেদা জিয়া ও তার ছেলে দু’জনেই সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তারা সেই দলের নেতা নিজেরা নিজেদের দলের গঠনতন্ত্র মানে না, নিয়ম মানে না, আইন মানে না তো সেই দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা চলে না। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত, যে দলগুলো আছে এরা কারা। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারি জিয়া সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করেছে উচ্চ আদালতের রায় আছে। সেই সময় ক্ষমতা দখলকারী অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে থেকে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে যে দল তৈরি করেছিল সেই দল হচ্ছে বিএনপি। এরা মানুষের কল্যাণও চায় না, মঙ্গলও চায় না। মানুষকে আগুন দিয়ে পোড়ায়, মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। কাজেই এদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা চলে না।

যারা বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে এক করে দেখে তাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেকে অনেক কথা বলে, কেউ কেউ আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি'র তুলনাও করে; কেউ কেউ বলে দুই দল। এখানে একটা কথা বলতে চাই ২০০৮ সালের সেই নির্বাচনের বিএনপি পেয়েছিল মাত্র ৩০টি সিট ৩০০ সিটের মধ্যে। আওয়ামী লীগ মহাজোট করেছিল, বিএনপির ছিল ২০ দলীয় জোট; বিএনপির নেতৃত্বে পেল ৩০টি সিট আর বাকি আওয়ামী লীগ, তাহলে এই দুই দল এক পর্যায়ের হয় কীভাবে প্রশ্ন তুলে বলেন, দুই দল এক পর্যায়ের হয় কীভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তুলনা চলে না।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, যারা ওই দুই বড় দল বলবেন তারাও ভুল করেন। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মানুষের সংগঠন, এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই দল গড়ে উঠেছে। তাই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নতি হয়। এদেশের মাটি ও মানুষের সংগঠন আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, স্বাধীনতার সুফল আজকে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাচ্ছে। ইনশাল্লাহ পৌঁছাবে। উপস্থিত জনতাদের উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের মাঝেই তো আমি ফিরে পাই আমার হারানো বাবার স্নেহ, মায়ের স্নেহ, ভাইয়ের স্নেহ। আপনাদের এই স্নেহ ভালোবাসাই আমার একমাত্র শক্তি। আপনাদের জন্য সবসময় দোয়া করি, আপনারাও দোয়া করবেন। এ বাংলাদেশকে যেন উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে যেন গড়ে তুলতে পারি। কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ভবেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শাজাহান খান, কাজী আকরাম উদ্দীন আহমদ, আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মাহাবুব আলী খান ও সাধারণ সম্পাদক জি এম শাহাবুদ্দিন আজম বক্তব্য রাখেন।

এর আগে দুপুর ১২ টা ৪০ মিনিটে কোটালীপাড়ার জনসভা মাঠে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখান থেকে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার ৪৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভার শুরুতে এসব উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে কোটালীপাড়ায় আসেন। ৪৯টি প্রকল্পের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৩১টি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ৪টি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৩টি, কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদের ২টি, গোপালগঞ্জ পৌরসভার ২টি, গণপূর্ত বিভাগের ২টি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২টি, কোটালীপাড়া পৌরসভার ১টি, গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের ১টি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণায়লের ১টি প্রকল্প করেছে।

জনসভাস্থলে ছুটেছেন শিশু থেকে বৃদ্ধ : এ যেন বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ার। চারিদিক থেকে সতের মতো ছুটে আসছে মানুষ। নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী কেউই ঘরে নেই। মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে এসেছিলেন জনসভায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখেলেন আর ফিরলেন একরাশ ভালবাসা নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে পেরে খুশি কোটালীপাড়ার মানুষ। শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ভাঙ্গারহাট তালিমপুর তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ খবরে কোটালীপাড়া মানুষের মধ্যে ছিল আনন্দ আর উদ্দীপনা। জনসভায় যোগ দিতে ভোর থেকে জনসভাস্থলে ছুটেছেন শিশু থেকে বৃদ্ধ। ঘরের মেয়ে শেখ হাসিনাকে দেখেতে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে রইলেন জনসভাস্থলে। এরপর দুপুরে আসলের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঞ্চে উঠার সাথে সাথে তাকে স্বাগত জানায় সমাবেশস্থলে আসা সাধারন মানুষ। এরপর সেই মহেন্দ্রক্ষণে প্রধানমন্ত্রী শুরু করলেন তার বক্তব্য। মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনলেন জনসভা আসা সাধারন মানুষ। দীর্ঘ ৪ বছর পর প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে খুশি সাধারন মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনার বক্তব্য শেষ হবার পর করতালি আর শ্লোগানে শ্নোগানে ঘরের মেয়েকে অভিবাদন জানান। আগামী নির্বাচনেও ভোট দিয়ে তাকে প্রধানমন্ত্রী করবে এমন ইচ্ছা আর আকাংখা প্রকাশ করলো জনসভায় আসা সাধারন মানুষ। জনসভা শেষ হতেই আবার ছোট বড় নৌকা নিয়ে মিছিল করতে করতে বাড়ী ফিরলেন তারা। কোটালীপাড়ার মানুষ বার বার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের ভালবাসার প্রমাণ রেখেছেন। তাদের ভোটে আবারো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে কোটালীপাড়ায় আসবেন শেখ হাসিনা এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

বর্ণিল সাজ : দীর্ঘ ৪ বছর পর নিজ নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সেজেছে নবরূপে। বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে কোটালীপাড়া। সড়কগুলোতে নির্মাণ করা হয় অসংখ্য তোরণ ও দুই পাশে টাঙানো হয়েছে ডিজিটাল পোস্টার-ব্যানার। ঘরের মেয়েকে এক নজর দেখতে আনন্দ-উদ্দীপনা বিরাজ করেছে নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষের মাঝে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে শুধু কোটালীপাড়া বা গোপালগঞ্জই নয় এর আশপাশের জেলায় ও লাগে আমেজ। এ জনসভায় বরিশাল, মাদারীপুর, বাগেরহাট, নড়াইল, পিরোজপুর, খুলনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়াতপুরসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় যান। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে বঙ্গবন্ধু ও ৭৫ এর ১৫ আগস্ট নিহত শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো জেলা নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ ©  নলডাঙ্গা বার্তা

 
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park